ফ্রান্সে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পৌর কাউন্সিলরদের বিতর্কিত করার অপচেষ্টা—সতর্ক থাকার আহ্বান।

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ফ্রান্সে বসবাসরত  বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিকরা নির্বাচিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নব নির্বাচিত পৌর কাউন্সিলরদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, তারা যেন ভবিষ্যতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আরও সজাগ ও সচেতন থাকেন। তাদের মতে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এসব অনুষ্ঠানকে ব্যবহার করে জনপ্রিয় কাউন্সিলরদের বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পুরো কমিউনিটির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
কমিউনিটির সচেতন ব্যক্তিরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে পরবর্তী প্রজন্মও এই “নোংরা রাজনীতি”র শিকার হতে পারে। তাই এখন থেকেই দায়িত্বশীল অবস্থান নেওয়া জরুরি।
তারা আরও বলেন, “যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ফ্রান্সের মূলধারার রাজনীতিতে কাজ করছেন, তাদের মূল দায়িত্ব হচ্ছে স্থানীয় জনগণের সেবা করা। কিন্তু কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন নিজেদের প্রচার ও স্বার্থ হাসিলের জন্য এই সম্মানিত প্রতিনিধিদের ব্যবহার করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
ফ্রান্সে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একাধিক ব্যক্তি স্থানীয় পৌরসভায় কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য, গত স্থানীয় নির্বাচনে পাঁচজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক ফ্রান্সের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন—কৌশিক রাব্বানী (কাউন্সিলর, স্তা), নাহিদুল মোহাম্মদ (কাউন্সিলর, সাঁ-দেনি), ফাহিম মোহাম্মদ (কাউন্সিলর, ক্রেতেই), জুবায়েদ আহমেদ (কাউন্সিলর, ইভরি-সুর-সেন) এবং তানিয়া টুনু (কাউন্সিলর, গার্জ-লে-গোনেস)।
সচেতন মহল জোর দিয়ে বলছে, “কাউন্সিলরদের উচিত যেকোনো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আগে আয়োজকদের উদ্দেশ্য ও পটভূমি যাচাই করা। কারণ একটি ভুল পদক্ষেপই তাদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।”
এছাড়াও, নতুনভাবে নির্বাচিত এসব জনপ্রতিনিধিদের প্রতি ফ্রান্সে জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নতুন প্রজন্মের একটি বড় প্রত্যাশা রয়েছে। তারা চান, তাদের প্রতিনিধিরা যেন স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল এবং ইতিবাচক রাজনীতির চর্চা করেন, যাতে ফ্রান্সে বেড়ে ওঠা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কোনোভাবেই “নোংরা রাজনীতি”র শিকার না হয়। সেই লক্ষ্যেই কাউন্সিলরদের আরও সচেতন ও দূরদর্শী ভূমিকা পালন করা সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে উঠছে—জনপ্রতিনিধিদের সম্মান রক্ষা করা শুধু তাদের ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয়, বরং পুরো কমিউনিটির সম্মিলিত দায়িত্ব।
Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url