মার্কিন ভিসা আবেদনে সোশ্যাল মিডিয়া তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক: উদ্দেশ্য জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থা চিহ্নিতকরণ।

ডেক্স রিপোর্টঃ বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে ভিসা প্রার্থীদের জন্য এক নতুন নির্দেশনায় জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে সকল ভিসা আবেদনকারীকে তাদের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের (সোশ্যাল মিডিয়া) তথ্যাদি জমা দিতে হবে। নন-ইমিগ্র্যান্ট (DS-160) এবং ইমিগ্র্যান্ট (DS-260) ভিসা আবেদনের ফর্মে গত ৫ বছরে ব্যবহৃত সব সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের ইউজারনেম বা হ্যান্ডেল প্রদান করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার ঝুঁকি যাচাই করা।
কেন এই কঠোর পদক্ষপ? বিশেষজ্ঞদের মতামত:
সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ: নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক চরমপন্থা ছড়িয়ে দিতে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে। ভিসাপ্রার্থীর অনলাইন কার্যক্রম পর্যালোচনার মাধ্যমে কোনো উগ্রবাদী ভাবাদর্শ বা জঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
ব্যাকগ্রাউন্ড ও পরিচয় যাচাই: আবেদনকারী আবেদন ফরমে যে উদ্দেশ্য বা পরিচয় দিয়েছেন, তার অনলাইন কার্যক্রম এবং চিন্তাভাবনার সাথে তার মিল রয়েছে কিনা তা কনস্যুলার কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখতে পারবেন।
পাবলিক প্রোফাইল স্ক্রিনিং: বিশ্লেষকরা স্পষ্ট করেছেন যে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদনকারীর অ্যাকাউন্ট হ্যাক বা পাসওয়ার্ড চাওয়া হচ্ছে না। কেবল প্রকাশ্যে থাকা (পাবলিক) পোস্ট ও তথ্যগুলোই নিরাপত্তা সংস্থাগুলো স্ক্রিনিং করবে।
জাতীয় নিরাপত্তার সুরক্ষা: যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার নিরাপত্তার ফাঁক রাখতে চায় না। কোনো ব্যক্তির অতীত ব্যাকগ্রাউন্ডে সহিংসতা বা উগ্রবাদের লক্ষণ থাকলে তা মার্কিন কনস্যুলেটের নজরে আসবে।
আবেদনকারীদের জন্য সতর্কতা:
দূতাবাস থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আবেদন ফর্মে কোনো তথ্য লুকানো বা অসত্য তথ্য দেওয়া হলে তার ভিসা সরাসরি বাতিল হতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে ওই ব্যক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর আজীবন বা দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে। তাই সকল ভিসাপ্রার্থীকে বিগত ৫ বছরে ব্যবহৃত সমস্ত ইউজার আইডি ও সঠিক তথ্য প্রদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন ভিসায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য চাওয়ার নিয়ম এবং তা না দেওয়ার পরিণতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে Disclose All Social Media Handles Used In 5 years Or Risk Visa Ban ভিডিওটি দেখতে পারেন, যা মার্কিন ভিসা নীতির এই নতুন নির্দেশনার গুরুত্ব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করে।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url